যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় বড়সড় উদ্বেগের ছায়া। গত কয়েক মাসে একে একে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ১০ জন উচ্চপদস্থ পরমাণু বিজ্ঞানী ও গবেষক। কেবল নিখোঁজই নয়, বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাও ভাবিয়ে তুলছে প্রশাসনকে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, স্বয়ং হোয়াইট হাউস এখন এই তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। এই অন্তর্ধান কি কোনো সুগভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য? ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর অলিন্দ থেকে শুরু করে নাসার গবেষণাগার—সবখানেই এখন এক অজানা আতঙ্ক।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিখোঁজ ও মৃত বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি "অস্বাভাবিক প্যাটার্ন" দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এখন এফবিআই (FBI) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির (JPL) শীর্ষ প্রকৌশলী মনিকা জাসিন্তো রেজা, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিংয়ে গিয়ে আর ফেরেননি। এরপর আগস্টে নিখোঁজ হন পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রকল্পের স্টিভেন গার্সিয়া। শুধু তাই নয়, লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির প্রবীণ কর্মী অ্যান্থনি চাভেজ এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল উইলিয়াম নিল ম্যাককাসল্যান্ড-এর নিখোঁজ হওয়ার খবরটি পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে আরও দুই বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু। নাসার ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড এবং মাইকেল ডেভিড হিকস—যাদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। মজার ব্যাপার হলো, এই নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে যখন নাসা এবং পেন্টাগন পারমাণবিক মহাকাশ প্রযুক্তি বা 'Nuclear Space Technology' নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয় ও দ্রুতগতির কাজ চালাচ্ছে।
কংগ্রেসম্যান এরিক বার্লিসন এবং টিম বার্চেট ইতোমধ্যেই এফবিআই-কে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, স্পর্শকাতর তথ্য পাচার বা বিজ্ঞানীদের টার্গেট করে কোনো বিদেশি শক্তির হাত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
নিখোঁজ হওয়া এই ১০ জন বিজ্ঞানীর সবার কাছেই ছিল স্পর্শকাতর পারমাণবিক বা মহাকাশ গবেষণার গোপন নথি। হোয়াইট হাউসের এই তদন্ত কি কোনো বড় ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করবে? নাকি এই রহস্য চিরকালই অজানাই থেকে যাবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।