জাবি প্রতিনিধি : রহস্য, মনস্তত্ত্ব এবং জীবনের গভীর বাস্তবতার অনন্য মিশেলে তরুণ লেখক সামিয়া তাসনীম স্বাতীর প্রথম গল্পগ্রন্থ “স্মৃতিতে বৃহস্পতি” প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ। ভিন্নধর্মী ভাবনা ও আবেগঘন উপস্থাপনার কারণে ইতোমধ্যেই বইটি পাঠকমহলে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
মনস্তাত্ত্বিক ও ট্র্যাজেডি ঘরানার এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে দুটি শক্তিশালী গল্প। প্রতিটি গল্পই পাঠককে টেনে নিয়ে যায় মানুষের অন্তর্লোকের গভীরে—যেখানে জড়িয়ে আছে প্রতিশোধ, অপেক্ষা, বেদনা এবং অদেখা সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহস।
বইটির প্রথম গল্পে উঠে এসেছে এক রহস্যময় প্রতিশোধের কাহিনী। এক তরুণীর মানসিক দৃঢ়তা, ধৈর্য এবং সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে গল্পটি ধাপে ধাপে এগিয়ে যায়। সত্য ও প্রতারণার জটিল আবর্তে মানবমনের অন্ধকার দিকগুলো এমনভাবে উন্মোচিত হয়েছে, যা পাঠককে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে—প্রতিশোধের শেষ কি শুধু সমাপ্তি, নাকি এরও গভীর কোনো অর্থ আছে?
অন্যদিকে দ্বিতীয় গল্পটি সময়ের নির্মমতা এবং ভাগ্যের পরিহাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর জীবনে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন, অপেক্ষার ক্লান্তি এবং হারানোর বেদনা গল্পটিকে করে তুলেছে গভীরভাবে মানবিক ও আবেগময়।
বইয়ের ফ্ল্যাপে ফুটে উঠেছে অপেক্ষার এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য—বিবাহবার্ষিকীর রাতে স্বামীর জন্য সাজানো এক নারীর প্রতীক্ষা, যা একসময় রূপ নেয় বছরের পর বছর দীর্ঘ অনিশ্চয়তায়। প্রশ্ন জাগে—সে কি আর কখনো ফিরবে, নাকি হারিয়ে গেছে কোনো অজানা বৃহস্পতিতে?
বইটির লেখক সামিয়া তাসনীম স্বাতীর বলেন, “স্মৃতিতে বৃহস্পতি শুধুমাত্র দুটি গল্পের সংকলন নয়; এটি মানুষের নীরব যন্ত্রণা, অদেখা প্রতিশোধ এবং সময়ের নির্মম পরিবর্তনের কিছু অনুচ্চারিত কথার প্রকাশ।” তিনি আরও বলেন, গল্পের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের অদেখা সত্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি, যেখানে প্রতিটি অনুভূতি পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগাতে পারে।
সহজ অথচ প্রভাবশালী ভাষা এবং বিষয় নির্বাচনের স্বাতন্ত্র্যের কারণে বইটি ইতোমধ্যেই পাঠকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যারা রহস্য, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং বাস্তবধর্মী গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই বইটি হতে পারে এক অনন্য সংযোজন।