জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য ও জেরায় বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে আসামিপক্ষের জেরায় বক্তব্য দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আযমী।
জেরায় তিনি জানান, চাকরি থেকে বরখাস্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। তবে সেই রিটের নম্বর এখন মনে নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে রুল ইস্যু হলেও একক বেঞ্চে শুনানি শেষে তা খারিজ হয়ে যায়।
আযমী আরও বলেন, তার বরখাস্ত আদেশে সেনাপ্রধানের ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে অবসর সংক্রান্ত আদেশে কার স্বাক্ষর ছিল তা তার মনে নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বরখাস্ত বাতিলের জন্য কোনো আবেদনও করেননি তিনি।
গুম থেকে মুক্তির পর কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে তিনি জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তবে তদন্ত কমিটিতে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তার জানা নেই।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু দাবি করেন, গুমের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন আযমী। তবে তিনি এ দাবি অস্বীকার করেন।
জেরায় তাকে রাখা কক্ষের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তাকে ২১ বাই ১৭ ফুটের একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ জুন সেখানে এসি লাগানো হয়।
তিনি বলেন, “২০২৩ সালের ৬ জুন আমি প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলাম। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে এসি লাগানো হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর আমি এসিবিহীন কক্ষে ছিলাম।”
জেরায় তিনি আরও জানান, তাকে একটি আটতলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় রাখা হয়েছিল। ভবনটি তাদের পারিবারিক হলেও তখন তিনি সেখানেই বন্দি ছিলেন।
চাকরিজীবনে তিনি দুটি ব্রিগেড কমান্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানান।
এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন এবং সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। জেরা অসমাপ্ত থাকায় ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির জন্য মুলতবি ঘোষণা করে।