রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম থানা এলাকায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় তিন মাস বয়সী শিশুকে (সৎ সন্তান) মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যার এক বীভৎস অভিযোগ উঠেছে অপূর্ব (২২) নামের এক পাষন্ড সৎ বাবার বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় ওই এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে বর্ধনবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘাতক সৎ বাবাকে স্থানীয়দের সহায়তায় গ্রেপ্তার করেছে। শিশুটির মা রাজিয়া খাতুন বাদি হয়ে স্বামী অপূর্বর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরবেলা শিশুটি তার মায়ের পাশে শুয়ে কাঁদছিল। গভীর ঘুমে মগ্ন অপূর্ব শিশুর চিৎকারে বিরক্ত হয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। এ সময় সে তার স্ত্রী রাজিয়া খাতুনকে চিৎকার করে বলতে থাকে, "এতো ভোরে তোর বাচ্চা কাঁন্দে ক্যান? কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু।" ক্ষুধার্ত বা অসুস্থ শিশুটির কান্না যখন থামছিল না, তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পাষণ্ড অপূর্ব হাত দিয়ে সজোরে শিশুটির মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মায়ের কোলেই নিথর হয়ে যায় তিন মাসের শিশুটি।
সন্তানের নিথর দেহ দেখে মা রাজিয়া খাতুনের গগণবিদারী চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তারা ঘর থেকে পালানোর সময় অপূর্বকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে দারুসসালাম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিহত শিশুটির আসল বাবা বর্তমানে মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অসহায় অবস্থায় পড়ে মাত্র এক সপ্তাহ আগে রাজিয়া খাতুন মাদকাসক্ত অপূর্বকে বিয়ে করেন। অপূর্ব এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিয়ের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই নৃশংসতা পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা সংবাদ পেয়েই শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত অপূর্বকে গেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। শুক্রবারই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।