গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট এলাকার অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যকেন্দ্র হাজী মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এতে বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী তাদের সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে মার্কেটের একটি দোকান থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগই পাননি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজ নিজ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে বেশ কয়েকটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দোকানে থাকা জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, প্রসাধনী সামগ্রীসহ নানা ধরনের মূল্যবান পণ্য আগুনে পুড়ে গেছে। অনেকেই জীবনের সঞ্চয় দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস ছিল এসব দোকান।
খবর পেয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন গাইবান্ধা-০৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাদুল্লাপুর উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম রব্বানী রতনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
নিউজ ডেস্ক