ঢাকা

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২১

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি:মিরর নিউজ ছবি:মিরর নিউজ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : ​কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া গ্রামে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ ও ডিবি’র বিশেষ অভিযানে ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে দেশীয় অস্ত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে শুক্রবার সকালে এলাকায় পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মিরপুর থানা পুলিশের একটি টিম বুরাপাড়া এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে ২১ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আটককৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু রামদা, হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি— প্রাক্তণ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সক্রিয় থাকা জাসদ নেতা রিয়াজুল হক, তুফান, জাহাঙ্গীর এবং নাহিদ হাসানসহ বেশ কয়েকজন বর্তমানে নিজেদের বিএনপির পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ নেতাদের কারণেই এলাকায় অস্থিরতা ও সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে বলে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আটক ২১ জনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর রেজাউল হক জানান, স্থানীয় ক্রোন্দলের জেরে মামলা হয় এতে জামায়াতের ২১ নেতকর্মীকে আটক করা হয়েছে। 
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, "বর্তমানে গ্রামের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
বুরাপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অস্থিরতা থেকে মুক্তি চান। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসে।




কমেন্ট বক্স