ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সব শিক্ষার্থীর জন্য “ইসলামিক স্টাডিজ” কোর্স বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ইবি পূজা উদযাপন পরিষদ।
ইবি প্রতিনিধি: মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের নেতৃত্বে প্রচার সম্পাদক শুবংকর রায়, সহ-প্রচার সম্পাদক আশীর্বাদ রায় ও চয়েস কুমার বিশ্বাস এবং সহ-মন্দির বিষয়ক সম্পাদক পার্থ প্রতীম চক্রবর্তীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাডেমিক কাউন্সিলের ১৩১তম সভা ও ২৭১তম সিন্ডিকেট সভার অনুমোদন অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধর্মীয় দিক মূল্যায়ন না করে "বাংলাদেশ স্টাডিজ" এবং "ইসলামিক স্টাডিজ" কোর্স দুটিকে ক্রেডিট কোর্স হিসেবে অত্যাবশ্যক করা হয়েছে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য "ইসলামিক স্টাডিজ" কোর্স বাধ্যতামূলক করা ধর্মীয় সার্বভৌমত্ব হরণের নামান্তর। জুলাই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে এক ধর্মের সংস্কৃতি অন্যান্য ধর্মের উপর চাপিয়ে দেওয়া জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। আমরা এমন অবিবেচনীয় সিদ্ধান্তে উৎকণ্ঠিত।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে থাকে, একটি সুনির্দিষ্ট ধর্মের শিক্ষাকে (ইসলামিক স্টাডিজ) অন্যান্য ধর্মের জন্য বাধ্যতামূলক করা স্বাধীন বাংলাদেশ পন্থী চেতনার পরিপন্থী এবং চরম বৈষম্যমূলক আচরণ। অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে স্ব স্ব "ধর্মীয় শিক্ষা" পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক পর্যায়ে ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ ও ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ কোর্স ক্রেডিট কোর্স হিসেবে চালুর পরিকল্পনা নেয় ইবি প্রশাসন। এরপর থেকেই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক