বরগুনা প্রতিনিধি :বরগুনার আমতলী পৌর শহরে শারমিন আক্তার রুবা (২৭) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
জানা গেছে, আমতলী পৌর শহরের মহিলা কলেজ সড়কের বকুলনেছা মহিলা কলেজ সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাট বাসায় প্রায় এক বছর ধরে মা জাহানারা বেগমকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন শারমিন আক্তার রুবা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে ওই বাসায় পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাহাত ফকির নামে এক ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সে করে শারমিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন আহমেদ সুমন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শারমিনের বাসা থেকে সকালে ঝগড়া ও কান্নার শব্দ শোনা যায়। পরে বিকেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে, মৃত্যুর আগে শারমিন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার জীবন যাহারা নষ্ট করেছে, আল্লাহ যেন তাদের ধ্বংস করে দেন।” পরে ওই পোস্টসহ কিছু ছবি মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রাহাত ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, “মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই খুদা বলেন, “ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ ডেস্ক