দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ফজল হোসেন স্বাক্ষরিত লিখিত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন—উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল।
নোটিশে বলা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা মেনে চলার অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও দলীয় সুনাম ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা দলের আদর্শের পরিপন্থি।
এ কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হবে না—তা তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সহোদর হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এসব ঘটনায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়; পরে তারা জামিনে মুক্ত হন।
এছাড়া সম্প্রতি আব্দুর রউফের অনুসারীরা আব্দুল জলিলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত আব্দুর রউফ বলেন, তিনি নোটিশ পেয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেবেন।
অন্যদিকে আব্দুল জলিল বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তিনি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, “দুই নেতার দ্বন্দ্বে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”