বরগুনায় জেলা পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পায়রা সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি।
সভায় বরগুনা সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। এতে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষে বক্তব্য দেন জাকির হোসেন মিরাজ ও মনির হোসেন কামাল।
সভায় জাগোনারী সংস্থার বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেংদেনিং কমিউনিটি প্রিপেয়ার্ডনেস, র্যাপিড রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘সাইক্লোন অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন প্ল্যানিং অ্যান্ড রেসপন্স ইন বরগুনা’ প্রকল্পের অগ্রগতি ও কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
জানা যায়, দাতা সংস্থা অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সহায়তায় বরগুনা সদর উপজেলার দুর্যোগপ্রবণ আয়লাপাতাকাটা, বুড়িরচর, এম বালিয়াতলী, গৌরিচন্না ও ফুলঝুড়ি ইউনিয়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে জাগোনারী। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি জোরদার, ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ১৬৪টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সদস্যদের কাজের বিনিময়ে ২ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন ক্যাশ গ্রান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া একই প্রকল্পের আওতায় ফুলঝুড়ি ও গৌরিচন্না ইউনিয়নের দুটি কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশনকে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। বিকল্প জীবিকা সহায়তার জন্য ব্যক্তি ও দলভিত্তিক ৫০টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাইক্লোন অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন প্রকল্পের আওতায় ৭ হাজার ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সভায় বক্তারা এসব উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও কার্যকর উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নিউজ ডেস্ক