নোবিপ্রবি প্রতিনিধি :নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘শিক্ষার্থী নেতৃত্ব এবং আগামীর ক্যাম্পাস ভাবনা’ শীর্ষক মুক্ত আলাপের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করেছে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি।
এ আয়োজনকে “আইস ব্রেক” হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, এমন আয়োজন মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তবে সাংবাদিক সমিতি উদ্যোগ নিয়ে এ আয়োজন করে কার্যত আইস ব্রেকের ভূমিকা পালন করেছে এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও ক্লাবের মধ্যে ইতিবাচক সংলাপের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রশাসন থেকেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সেমিনার কক্ষে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে এ মুক্ত আলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও ক্লাব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে ক্যাম্পাসের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, এ ধরনের “আইস ব্রেক” উদ্যোগ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠনমূলক সংলাপ ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় তার শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতিতে। আমরা শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানসম্মত জার্নালে পাব্লিকেশন এবং গবেষণা ফান্ড সংগ্রহের শর্ত দিয়েছি, যাতে থিসিস পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পায়। তিনি আরও জানান, ইউজিসি থেকে প্রাপ্ত বাজেট ৯৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৯ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। মেডিকেল সেন্টারের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে সেখানে ২৪/৭ ডিউটি ডাক্তার রয়েছে এবং একটি ব্যাংকের অনুদানের মাধ্যমে নতুন আরও একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নোয়াখালীর অন্যান্য স্থানের তুলনায় স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেবাও চালু করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫৪টি ক্লাবের জন্য ইউজিসির বার্ষিক বরাদ্দ মাত্র ২ লক্ষ টাকা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন খাত থেকে সমন্বয় করে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের মুক্ত আলাপ আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে সাংবাদিক সমিতির এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণ করে একটি কার্যকর “আইস ব্রেক” হিসেবে কাজ করেছে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ। নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সমিতির উপদেষ্টা অধ্যাপক এ. এফ. এম আরিফুর রহমান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শিবলুর রহমান।
মুক্ত আলাপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ এবং একটি সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। তারা ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ, ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক চর্চা, র্যাগিং ও মাদকবিরোধী অবস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।