ঢাকা

বুটেক্স স্টেশনারিতে জায়গাস্বল্পতা: ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মিরর নিউজ মিরর নিউজ
বুটেক্স প্রতিনিধি: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় স্টুডেন্টস কর্নারে স্টেশনারি দোকান থাকলেও সেটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রয়েছে নানান অভিযোগ। বিশেষ করে স্টেশনারিটিতে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ। 

তাছাড়া পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় অতিরিক্ত ভিড় সামলানো স্টেশনারি দোকানিদের জন্যও কষ্টসাধ্য। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক স্টেশনারিটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের কথা বলা হলেও সেটির বাস্তবিক রূপায়ণ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। 

পূর্বে বুটেক্সের পুরনো টিএসসি এর সামনে ছিল কেন্দ্রীয় স্টেশনারির অবস্থান। পরবর্তীতে সেটির স্থান পরিবর্তন করে বুটেক্সের একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় আনা হয়। বেশিরভাগ সময় শিক্ষার্থীরা বুটেক্সের স্টেশনারি থেকে বিভিন্ন কোর্সের বই, নোট, শিট প্রিন্ট এবং ফটোকপি করে থাকে। স্টেশনারিতে পণ্যগুলোর দাম সাধারণত বাইরের দোকানের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম থাকায় এখানে আসেন তারা। তাছাড়া দোকানটি ক্যাম্পাসে অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে বা প্রয়োজনীয় মুহুর্তে দ্রুত সময়ে কেনাকাটা করতে হলে এখানেই আসে।


এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হলেও জায়গা ছোট হওয়ায় ক্লাস চলাকালীন সময়ে প্রচুর ভিড় লক্ষ করা যায়। এছাড়াও ল্যাব ফাইনাল পরীক্ষা, টার্ম ফাইনালের ফর্ম ফিলাপের সময় গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রচুর ভিড় লক্ষ করা যায় এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাগজ প্রিন্ট বা ফটোকপি করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।


বুটেক্সের স্টেশনারি নিয়ে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসাইন বলেন, "স্টেশনারিটা বেশি ছোট হওয়ায় অনেক সময়ই দেখা যায় কোন একটা জিনিস প্রিন্ট করাতে, কিনতে, আনতে ভিড়ের মাঝে কখনো কখনো ২০-৩০ মিনিট সময় লাগে, যেটি মূলত ১-২ মিনিটের কাজ ছিল। কম্পিউটার অপারেটর মাত্র এক-দুইজন থাকায় সঠিক সময়ে সবার প্রয়োজন সামাল দিতে পারে না। সেলসম্যান এর সংখ্যাও কম থাকায় ভিড়ের সময় কোনো জিনিস কিনতে অনেক সময় নষ্ট হয়।"

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এম এম ফাহাদ জয় বলেন, "সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ল্যাব বা ক্লাসগুলোর আগমুহূর্তে, যখন শিক্ষার্থীদের ভিড়ে এখানে মাত্রাতিরিক্ত চাপ থাকে। একটা কাজ করাতেই তখন অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে জায়গাস্বল্পতা। ওই ভিড়ের সময় একে তো অতিরিক্ত গরম, আবার এই অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে দাঁড়াতে হয় যা কিছুটা কষ্টদায়ক পরিস্থিতি তৈরি করে।" 

তবে জায়গা সংকটের জন্য শিক্ষার্থীদের কিছুটা কষ্ট হলেও কাজ করতে গিয়ে স্টেশনারিতে কর্মরতদের তেমন অসুবিধা হয় না বলে জানান স্টেশনারিটিতে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মো: হাসান। তিনি বলেন, "বর্তমানে স্টেশনারিতে আমরা তেমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিনা আগের মতো। প্রিন্টার সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পূর্বের চেয়ে খানিকটা লাঘব হয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, "ইতিপূর্বে যখন ক্যাম্পাসে রাজনীতি ছিল, তখন সমস্যাটা বেশি ছিল, রাজনৈতিক সুবিধা ও প্রভাব দেখিয়ে আমাদেরকে বঞ্চিত করা হতো। তবে এখন সেই ব্যাপারগুলো নেই বলে বর্তমানে আমাদের ন্যায্য পাওনাটুকু পাচ্ছি ঠিকমতোই। যার ফলে সার্বিক বিবেচনায় আমরা ভালো আছি আগের থেকে।"

শিক্ষার্থীদের জন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী স্টেশনারিতে পাওয়া যাচ্ছে কিনা এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে দোকানের পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, "শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সরবরাহ করতে পারি। তবে অনেকসময় স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো দিতে পারিনা, তবে আমরা সেটি দ্রুতসময়েই জোগাড় করে এনে দেয়ার চেষ্টা করি। আর কোনো জিনিস আমাদের কাছে না থাকলে আমি সেটি সোর্সিং করে দ্রুতসময়ে স্টেশনারিতে এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।"

ইতিপূর্বে উত্থাপিত হওয়া স্টেশনারি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "পূর্বে পরিকল্পনা হয়েছিল যে বর্তমান স্টেশনারিটি স্থানান্তর করে আরো বেশি জায়গা নিয়ে নতুন ক্যান্টিনের পিছনে স্থাপন করবে। আর এখনকার স্টেশনারিটির জায়গাটি উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন ক্যান্টিন স্থাপনের পর পিছনের জায়গাটি অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে, যার ফলে স্টেশনারির কাজটি আর এগোয়নি।" 


বুটেক্সে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মোঃ মামুন কবীর বলেন, "পূর্বে স্টেশনারিটি স্থান পরিবর্তন করে বুটেক্সের ক্যান্টিনের সামনে ফাকা স্থানে আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকটসহ বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর কারণে সরকার থেকে ইতিপূর্বে যে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল তার ৫০ শতাংশই ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। আর সংকটময় পরিস্থিতির কারণে নতুন কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে বাধ্যতামূলকভাবে সরকার থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনায় বরাদ্দকৃত বাজেটের অর্ধশতাংশই ফিরিয়ে নেয়ায় আমরা চাইলেও এটি বাস্তবায়ন করতে পারছিনা।"

ভবিষ্যতে স্টেশনারিটির স্থান পরিবর্তন এবং সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, "উক্ত পরিস্থিতির কারণে স্টেশনারি সম্প্রসারণের কাজটি এখন আপাতত বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও সামনের দিনগুলোতে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে যথেষ্ট বাজেট বরাদ্দ পেলেই আমরা এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।"

সার্বিক বিবেচনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেশনারিটির সেবামান বাড়ানোর জন্য আরো বেশি জায়গা, বেশি জনবল এবং অপারেটর প্রয়োজন। যাতে করে শিক্ষার্থীরা কম সময়ে অধিক সেবা পেতে পারে এবং একই সাথে স্টেশনারিটিও স্বল্প সময়ে অধিক জনের চাহিদা পূরণ করে বেশি লাভবান হতে পারবে।



কমেন্ট বক্স