ঢাকা

প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, জেলগেটেই মৃত বাবাকে দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত
বরিশালে বাবার মৃত্যুর পরও লাশ দেখতে প্যারোলে মুক্তি মেলেনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা মো. শাহরুখ খানের। পরে বাবার লাশ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে সন্তানকে শেষবার দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহরুখের স্বজনরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে বরিশাল মহানগরের নিউ সার্কুলার রোডে নিজ বাসা থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শাহরুখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


এর পর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবা আবুল বাশার খান (৫৮) মারা যান। বটতলা টেম্পোস্ট্যান্ডে লাইনম্যানের চাকরি করতেন আবুল বাশার।

শাহরুখের ভাই সালমান খান সাগর জানান, শাহরুখের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করেছিলেন।


সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁদের বসিয়ে রাখা হয়। এরপর একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে বলেন, ‘আপনারা কারাগারে যান, আমরা সেখানে বলে দিচ্ছি।’
সাগর অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়ার পর সেখানকার কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি। পরে বিকেল পৌনে ৪টায় লাশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে কারাগারে নেওয়া হয়।


এ সময় লাশের সঙ্গে তিনজনকে কারাগারে ঢুকতে দেওয়া হয়। বাবার লাশ দেখার জন্য কারা অভ্যন্তরে মাত্র ৫ মিনিট থাকতে দেওয়া হয়। নগরের নিউ সার্কুলার রোড গাজিবাড়ি মসজিদে বাদ আসর শাহরুখের বাবার প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার করাপুর ইউপির পপুলার এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়।
সাগর আরো জানান, শাহরুখ ৫ আগস্টের পরে হওয়া আটটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আরো ৩টি মামলায় আসামি করা হয়।


শাহরুখের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিন্টু জানান, তাঁর মক্কেলের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর করা হয়েছিল, কিন্তু আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মোহাম্মদ মাহবুব কবিরকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা বলেন, ‘আমার কাছে প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন আসে। আবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর ছিল। পরে আবেদনের বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানাই। স্যার অফিসে না থাকায় আবেদনটি হোয়াটসঅ্যাপে দিই। স্যার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলগেটে দেখা করার সিদ্ধান্ত দেন। এখানে পুরো বিষয়টি স্যারই সিদ্ধান্ত নেন। পরে আমি সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দিই।



কমেন্ট বক্স