যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইনস হঠাৎ করে তাদের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে কোম্পানিটির সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সংস্থাটি জানায়, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় কোনো সমাধান না আসায় তারা কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে প্রায় ১৭ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা, ইউনাইটেড ও জেটব্লু দ্রুত এগিয়ে এসে স্পিরিটের যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইট ও ছাড়মূল্যের টিকিটের ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি স্পিরিটের কর্মীদের নিয়োগ ও সহায়তার কথাও জানিয়েছে কয়েকটি এয়ারলাইনস।
স্পিরিট এয়ারলাইনস জানায়, জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং চলমান অর্থনৈতিক চাপ তাদের আর্থিক অবস্থাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। অতিরিক্ত অর্থায়ন না পাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঋণদাতাদের ওপর নির্ভর করেছিল। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় কোম্পানিটির একীভূতকরণ প্রক্রিয়া আটকে যাওয়াকেও সংকটের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সাল থেকেই দেউলিয়া প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া স্পিরিট আগে থেকেই দুর্বল অবস্থায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে চূড়ান্তভাবে ভেঙে দিয়েছে।
যাত্রীদের মধ্যে অনেকে এখন বিকল্প ফ্লাইটের উচ্চ ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। একই সঙ্গে হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমূল্যের বিমান ভাড়া বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজ ডেস্ক