ঢাকা

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ-

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি : মিরর নিউজ ছবি : মিরর নিউজ
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) প্রকল্পের অর্থায়নে দরিদ্র নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) আনুমানিক বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: পি আই সি প্রকল্পের আওতায় ১৬ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাইসাইকেল তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল পাশা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহ-সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল খায়ের, ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বকুল হোসেন, উড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি শহর আলী, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাইদুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি আবেদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। গুণভড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী কাকুলি আক্তার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“প্রতিদিন সকাল ৬টায় প্রাইভেট পড়ে স্কুলে যেতে হতো, কিন্তু কোনো যানবাহন পাওয়া যেত না। প্রায়ই হেঁটে যেতে হতো, যা ছিল খুব কষ্টকর। বাবার আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বাইসাইকেল কেনা সম্ভব হয়নি। আজকে সরকারিভাবে বাইসাইকেল পেয়ে আমি খুব খুশি। এখন আর স্কুলে যেতে কোনো কষ্ট হবে না।”

একই বিদ্যালয়ের চর কাবিলপুরের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিধি আক্তার বলেন,
“চর এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেতে হতো। নদী পার হয়ে কোনো যানবাহন পাওয়া যেত না। এটি ছিল আমাদের জন্য অনেক কষ্টের বিষয়। এখন বাইসাইকেল পেয়ে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারব, কষ্ট অনেক কমে যাবে।”অভিভাবকরা জানান, নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে যাতায়াত সবসময়ই বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। বাইসাইকেল বিতরণের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

এতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হারও কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সহজ ও নিয়মিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বাইসাইকেল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। 

এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে পারবে।”স্থানীয়দের মতে, চরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কষ্ট কমার পাশাপাশি শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ ও উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



কমেন্ট বক্স