পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার একটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বারবার প্রশ্নপত্র বিতরণে দেরির অভিযোগ উঠেছে। এতে পরীক্ষার্থীরা সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যায় পড়েছেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জানা গেছে, গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। কেন্দ্রের ১০৬ ও ১০৭ নম্বর কক্ষে একাধিক পরীক্ষায় একই ধরনের বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় প্রায় ১০ মিনিট, বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ৫ মিনিট এবং সর্বশেষ রবিবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক অংশে ৫ মিনিট ও লিখিত অংশে প্রায় ১০ মিনিট দেরিতে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে প্রশ্নপত্র না পাওয়ায় তারা সব প্রশ্ন সম্পূর্ণ করতে পারেননি।
এতে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এক পরীক্ষার্থী বলেন, “প্রশ্ন দেরিতে পাওয়ায় আমরা সময়মতো সব লেখা শেষ করতে পারিনি, এতে আমাদের বড় ক্ষতি হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, একই কক্ষে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি পরিকল্পিত কি না—তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, শুরুতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
অন্যদিকে গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে প্রশ্নপত্র বিতরণে বিলম্ব হয়েছে। তিনি কেন্দ্রের প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতাকেও দায়ী করেন।
তবে কেন্দ্র সচিব ও গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এক-দুই মিনিটের বেশি দেরি হয়নি। অভিযোগটি সত্য নয়।”
গলাচিপা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আবুল কালাম সাঈদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় প্রায় ৩ মিনিট দেরির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “দেরি হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা খাতা গ্রহণে কিছুটা সময় নমনীয় ছিলাম।”
এ ঘটনায় অভিভাবকরা বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যতে কোনো পরীক্ষার্থীর সঙ্গে এমন অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
নিউজ ডেস্ক