ঢাকা

তিন যুগের তিন শাসন: ভোটের রায়ে কোন পথে যাবে বাংলা?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস মূলত তিনটি শক্তির হাত ধরে গড়ে উঠেছে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস। সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে শাসক, বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ, আর সেই ধারাবাহিকতায় আবারও এক নতুন মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্যটি।

১৯৪৭ সালের পর প্রথম কয়েক দশক কংগ্রেসের দখলেই ছিলো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা। এই সময়েই রাজ্যের শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপিত হয়। তবে ষাটের দশকের শেষ দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্য আন্দোলনের জেরে কংগ্রেসের শক্তি কমতে শুরু করে। ফলস্বরূপ, ১৯৬৭ সালে গঠিত হয় প্রথম অ-কংগ্রেস জোট সরকার যুক্তফ্রন্ট।

এরপর ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্টের উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে বাম সরকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিকাশ এবং ভূমি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পায়ন ঘিরে বিতর্ক, বিশেষ করে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন, তাদের জনসমর্থনে প্রভাব ফেলে।
২০১১ সালে পরিবর্তনের হাওয়ায় ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাম শাসনের অবসান ঘটে এবং শুরু হয় ‘মা-মাটি-মানুষ’ কেন্দ্রিক রাজনীতি। কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সবুজ সাথীসহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে তৃণমূল।

তবে এই সময়কালে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ, যেমন চিটফান্ড কেলেঙ্কারি বা নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক, সরকারকে চাপে ফেলেছে। একইসঙ্গে বিজেপির উত্থান রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে তারই একটি বড় পরীক্ষা। ভোটাররা কি আবারও তৃণমূলের ওপর আস্থা রাখবে, নাকি নতুন কোনো শক্তিকে সুযোগ দেবে সেই উত্তরই লিখবে বাংলার পরবর্তী অধ্যায়।



কমেন্ট বক্স