মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ওপেক প্লাস-ভুক্ত সাতটি দেশ, যার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব ও রাশিয়া।
জোটের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী জুন থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উৎপাদন বৃদ্ধির বড় অংশ আসবে সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, সংঘাতের অবসান ঘটলে জ্বালানির দাম আবার কমে আসবে। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ বাড়ানোর এই উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে, তবে আঞ্চলিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক