ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী নারী নেত্রীদের মধ্যে মমতা ব্যানার্জী অন্যতম ছিলেন। একসময় জে জয়ললিতা ও কুমারী মায়াবতী-র সঙ্গে তাঁর নাম উচ্চারিত হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই ধারায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মমতা নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করে ২০৭টি আসন দখল করেছে, যেখানে তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৮০টি আসন।
বিশেষ করে মমতার নিজস্ব কেন্দ্র ভবানীপুরে তাঁর পরাজয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে তিনি পরাজিত হয়েছেন একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার দীর্ঘদিনের ‘লড়াকু’ ভাবমূর্তি এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবার আর ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়নি। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী নারী নেতৃত্বের যে ধারা একসময় স্পষ্ট ছিল, সেটি কি নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
তবে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে নারাজ মমতা ব্যানার্জী। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় প্রতিপক্ষ জয় পেলেও নৈতিকভাবে তাঁর দলই বিজয়ী। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এই পরিস্থিতিতে এখন নজর থাকবে, মমতা ব্যানার্জী কি আবারও রাজনৈতিক ময়দানে শক্তভাবে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন, নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটবে।