অর্থসংকটের কারণে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এমন অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়রা। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপাচার্য, যিনি দাবি করেছেন অ্যাথলেটিক্সে অংশ না নেওয়ার পেছনে অর্থসংকট নয়, বরং কোনো কোয়ালিফাইড অ্যাথলেট দল না থাকা এবং যাওয়ার জন্য সুপারিশ বা আগ্রহ প্রকাশ না করা।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য দল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতা গুলোতে অংশ নেবে।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটিক্স মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়, যা চলবে ৬ মে পর্যন্ত।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের আসরে দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় ৩০টি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন। সারা দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উদ্বোধনী দিনে কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এমন বড় আয়োজনেও অংশ নেয়নি নোবিপ্রবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে অর্থসংকট দেখিয়ে তাদের অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খেলোয়াড় বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অর্থের অভাব দেখিয়ে আমাদের পাঠানো হয়নি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।”
নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি ও অ্যাথলেট জাহিদুল হক বলেন, “আমরা শরীরচর্চা বিভাগকে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু তারা আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছে। ২০ বছর পার করেও একটি টুর্নামেন্টে দল পাঠানোর সামর্থ্য না থাকা দুঃখজনক। প্রতিষ্ঠালগ্নে যে বাজেট দেওয়া হতো, এখনো সেটিই বহাল রয়েছে।”
স্পোর্টস ক্লাবের সেক্রেটারি মো. আবু তাহের বলেন, “একজন অ্যাথলেটের জন্য এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, নিজের পরিশ্রম প্রমাণের সুযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব। কিন্তু খেলাধুলার ক্ষেত্রে বারবার ‘সংকট’ শব্দটি শুনতে হয় তাহলে এই সংকটের শেষ কবে?”
এ বিষয়ে শরীরচর্চা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুর রহমান পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে পরিচালক ড. রুহুল কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল, ক্রিকেট এবং ব্যাডমিন্টন দল যাচ্ছে। আমাদের কোনো কোয়ালিফাইড অ্যাথলেট দল নেই। তারা যাওয়ার জন্য সুপারিশ বা আগ্রহ প্রকাশ করেনি। অন্যান্য দলগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে। এ কারণেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা হয়নি।”
নিউজ ডেস্ক