ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন বাংলাদেশে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য এমপির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

মঙ্গলবার রাতে বাউফল উপজেলার বাংলাবাজারস্থ জামায়াত কার্যালয়ে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত হিন্দু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় প্রায় অর্ধশতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি জীবন কৃষ্ণ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক অধীর চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন,
“আমরা আগামী দিনে আপনাদের বুদ্ধি-পরামর্শ নিয়ে বাউফলকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। সংসদের টানা অধিবেশনের কারণে আপনাদের দুটি বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও বলেন,
“আমরা যা বলি, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি—এটা আমাদের ঈমান ও দায়িত্ববোধের অংশ। মানুষের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।”
মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা এখনও পুরোপুরি মাদক নির্মূল করতে না পারলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে থানার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়িয়ে নেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা আমরা বন্ধ করতে পেরেছি। এটি বড় অর্জন। বাকিটাও ইনশাআল্লাহ সম্ভব হবে।”

তিনি মাদককে “ক্যান্সারের মতো মহামারি” উল্লেখ করে বলেন,
“১২ তারিখের পর থেকে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
“আগে দেখা যেত, কাউকে ধরার আগেই তাকে ছাড়ানোর জন্য তদবির শুরু হয়ে যেত। এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। প্রশাসনও স্বীকার করছে যে তারা এখন সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছে।”

চুরি দমনে নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“জেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় আমরা স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি—মাদক ও চুরি দমনে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে চোরদের গ্রেপ্তার বাড়ছে এবং আমরা চোরচক্র ভাঙার কাজ শুরু করেছি।”

তিনি আরও জানান,
“মাদক ও চুরি দমনে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং ধাপে ধাপে সমাধানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।”

অপরাধ প্রসঙ্গে এমপি বলেন,
“পৃথিবীর সব অপরাধ একবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে কোনো অপরাধকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।”

জেলখানার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন,
“একজন ব্যক্তি ১২-১৪ বার কারাগারে গেছে—সে নিজেই বলেছে, চুরির অভ্যাস ছাড়তে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব অপরাধ পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠে। তাই স্থানীয় 
জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।”

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“ভারতের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে অতীতে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

তিনি আরও বলেন,
“পশ্চিমবঙ্গে কে জয়ী হলো, তা নিয়ে সেখানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তার কোনো প্রতিফলন বাংলাদেশে পড়বে না।”

শেষে উপস্থিত হিন্দু নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
“আগামী পাঁচ বছর আমি আপনাদের পরামর্শ নিয়েই এগোতে চাই। শুধু পরামর্শ নয়, প্রয়োজনে আমার ভুলও ধরিয়ে দেবেন। সমালোচনাই উন্নতির পথ দেখায়—এটাই আমি বিশ্বাস করি।



কমেন্ট বক্স