দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দলটি ধারাবাহিকভাবে তাদের সাংগঠনিক বিস্তার বাড়াচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বের প্রত্যাশা ও বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের চাহিদাকে সামনে রেখে দলটির কার্যক্রম দিন দিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী প্ল্যাটফর্ম থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা দলটির সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
গত শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন। নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তর আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, যাদের মধ্যে ছিলেন যুগ্ম সদস্য সচিব শাহরীন ইরা, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক রাফিদ এম ভূইয়া এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মনসুর।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, এনসিপি এখন দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও মতবিনিময় বাড়িয়েছে। তাদের দাবি, প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে একটি নতুন বিকল্প রাজনীতির প্রত্যাশা থেকেই তরুণ সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ এনসিপির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি যোগদান অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরিবারের এক সদস্যসহ সাত শতাধিক ব্যক্তি এনসিপিতে যোগ দেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও তরুণ সংগঠকরা অংশ নেন।
এর আগে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং আন্দোলনকর্মী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগ দেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার এমন যোগদান দলটির রাজনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি এখন দেশের প্রচলিত দুই প্রধান রাজনৈতিক ধারার বাইরে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। তরুণ নেতৃত্ব, নতুন রাজনৈতিক বার্তা এবং সংগঠন বিস্তারের মাধ্যমে দলটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তবে তারা বলছেন, সাংগঠনিক কাঠামো এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী নয়, তাই ভবিষ্যতে বাস্তব রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে দলটিকে।
দলটির নেতারা বলছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের প্রত্যাশা করছে। সেই প্রত্যাশা থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তাদের মতে, ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক রাফিদ এম ভূইয়া বলেন, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীদের যোগদানে দলটি দ্রুত সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের তুরাগ থানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদও এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংগঠন পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করেছেন এবং ওয়ার্ড থেকে শুরু করে থানা ও মহানগর পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ধারাবাহিক যোগদান ও সাংগঠনিক তৎপরতায় এনসিপি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে।
নিউজ ডেস্ক