ঢাকা

বরগুনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত
বরগুনা প্রতিনিধি :বরগুনায় মাদকের ভয়াল থাবা ও পারিবারিক সহিংসতার বলি হয়ে জুঁই (১৮) নামে এক তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন! গত রাতে বরগুনার খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে পৈতৃক জনশূন্য ঘরে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন তিনি,

ঘটনার প্রেক্ষাপট: নিহত জুঁইয়ের বাবা জুয়েল বরগুনার এম, আলী, হোটেলের একজন সাধারণ কর্মচারী। নিজের নামের সাথে মিলিয়ে শখ করে মেয়ের নাম রেখেছিলেন 'জুঁই'। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মারুফ নামক এক যুবকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জুঁই।

‘ইয়াবা’র ভয়াল থাবা: বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই জুঁই বুঝতে পারেন তার স্বামী মারুফ মরণনেশা ইয়াবায় পুরোপুরি আসক্ত। স্বামীকে অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে জুঁই আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু মাদকাসক্ত মারুফ সংশোধনের পরিবর্তে উল্টো জুঁইয়ের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।

মর্মান্তিক পরিণতি: সম্প্রতি জুঁই অন্তঃসত্ত্বা হলে পারিবারিক কলহ আরো চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে যে, মারুফ ক্রমাগত তাকে গর্ভপাত করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। দীর্ঘদিনের নির্যাতন এবং অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন জুঁই। গতকাল ৮-মে রাতে বাবার বাড়িতে কেউ না থাকায় এ সুযোগে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।

একটি সুন্দর সাজানো সংসার গড়ার স্বপ্ন মাদকের করাল গ্রাসে ছাই হয়ে গেল। জুঁইয়ের এই অকাল মৃত্যু আবারো সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, মাদকের নেশা কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি পুরো পরিবার ও আগামীর সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দয়। 


এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম জানান, নিহত পারিবারিক সমস্যা কারনে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



কমেন্ট বক্স