গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ও দমকা হাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা, দোকানঘর ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঝড়ের তাণ্ডবে মরিয়ম বেগমের ঘরের ওপর একটি বড় আমগাছ ভেঙে পড়ে। এতে তার বসতঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়ম বেগম বলেন, “হঠাৎ করেই ঝড় শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা বড় আমগাছ ঘরের ওপর পড়ে যায়। আল্লাহর রহমতে প্রাণে বেঁচে গেছি।”
এদিকে উপজেলা পরিষদের সামনে মোঃ সুরুজ্জামাল নামের এক দোকানির দোকানের টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায় ঝড়ের তীব্র বাতাস। একই সঙ্গে দোকানের পেছনে থাকা একটি বিশাল আমগাছ ভেঙে পড়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সড়কের ওপর। এতে ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সুরুজ্জামালের মা সখি বেগম বলেন, “এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল। দোকানের চাল উড়ে গেছে, গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। ছেলের দোকান দিয়েই সংসার চলে।”
রামজীবন ইউনিয়নের সুবর্ণদহ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাফিজ উদ্দিনের দিনমজুর ছেলে মোঃ মাসুদ রানার একমাত্র বসতঘরের চালও ঝড়ে উড়ে গেছে। স্ত্রী ও তিন ছেলে-দুই মেয়েকে নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি।
মাসুদ রানা বলেন, “দিন এনে দিন খাই। অনেক কষ্ট করে একটা ঘর বানাইছিলাম। ঝড়ে সেই ঘরের চাল উড়ে গেছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে থাকার অবস্থা। সরকার বা বিত্তবান কেউ সহযোগিতা করলে পরিবারটা নিয়ে বাঁচতে পারবো।”
অন্যদিকে রামজীবন ইউনিয়নের গাবেরতল থেকে ডোমেরহাট পর্যন্ত সামাজিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লাগানো অসংখ্য গাছ ঝড়ে ভেঙে পড়ে। এতে পরিবেশ ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সামাজিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সভাপতি মোঃ নুর আলম সরকার বলেন, “বহু বছরের পরিশ্রমে লাগানো অনেক গাছ ঝড়ে ভেঙে গেছে। এতে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত গাছ অপসারণ ও পুনরায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সময় আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। অনেক এলাকায় গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।