নাটোরের বড়াইগ্রামের ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২টি বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন বিএনপি ও ৯ জন জামায়াতের নেতাকর্মী। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত চলা সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব এবং ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের বরাতে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকালে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব ও সাব্বিরকে মারপিট করা হয় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে। শনিবার সকালে ‘আপোস মিটিং’ করতে বাজারে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাসিনুর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আসাব সরকার, জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাকিব, সাব্বির, ইব্রাহীম খলিল সৈয়দ, মনির হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিনের স্ত্রী নাজমা বেগম আহত হন। গুরুতর আহত দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকি আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় ধানাইদহ গ্রামের কয়েকজন জামায়াত কর্মী এবং বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।
ঘটনার পর উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দায়ীদের গ্রেপ্তারসহ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
বড়াইগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বিএনপিকে দায়ী করে বলেন, নির্বাচনের পর দল দেশের উন্নয়নের দিকে মনোযোগ না দিয়ে ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলা করছে।
তবে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম রনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা সংঘর্ষে জড়িত, তারা বিএনপির কর্মী নয়, বরং সন্ত্রাসী। তিনি বলেন, ঘটনা রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক বা সামাজিক কারণে সংঘটিত হয়েছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।