গত ২৪ ঘণ্টায় তিন ইসরাইলি সেনা সদস্যদের আত্মহত্যার ঘটনায় বাহিনীর ভেতরে মানসিক সঙ্কটের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রভাবে সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন ইসরাইলি সেনা সদস্যের রহস্যজনক আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের ময়দানে যখন কামানের গর্জন আর বারুদের গন্ধ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই এক অদৃশ্য শত্রু হানা দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইলি বাহিনীর অন্দরে।সংবাদ প্রতিবেদন প্রশিক্ষণ
ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি হিব্রু সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এক ভয়াবহ উদ্বেগের জায়গায় পৌঁছেছে।
সবশেষ তথ্যে জানা গেছে, ইসরাইলি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আরো এক সদস্য অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন।
যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন যখন উত্তাল, ঠিক সেই সময়েই এই ঘটনাগুলো খোদ তেল আবিবকেও নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে লড়াইয়ের মাঝেই এমন ঘটনা ইসরাইলি সেনা সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের কঙ্কালসার অবস্থাকেই সামনে নিয়ে আসছে।
এই ধারাবাহিক আত্মহত্যার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের এক ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরাইলি সেনা সদস্যদের মধ্যে পিটিএসডি বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা বা যুদ্ধের ময়দানে থাকা সেনাদের মধ্যে এই মানসিক বিপর্যয় নতুন কিছু নয়।
ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম হ্যারেৎজের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজা ও লেবাননে চলমান অভিযানের পর হাজার হাজার সেনা সদস্য মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা বিভীষিকাময় স্মৃতি থেকে মুক্তি পেতে মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছেন। লড়াইয়ের ময়দানে যুদ্ধের নামে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালালেও ঘরের কোণে বা ক্যাম্পের ভেতরে এই ইহুদিবাদী সেনা সদস্যরা ভয়াবহ স্মৃতি তাড়না থেকে রক্ষা পায় না। নিজেদের সাথে যুদ্ধে ক্রমাগতহেরে যাচ্ছেন। এই ট্রমা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো ইসরাইলি বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়ার মতো এক নীরব মড়ক।
তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি ইঙ্গিত দিয়েছে, লড়াই যত দীর্ঘ হচ্ছে, সেনা সদস্যদের মধ্যে পরাজয়বোধ এবং অস্তিত্বের গ্লানি ততই সঙ্কট হিসেবে প্রকট হচ্ছে। যুদ্ধের দামামার আড়ালে এই যে রক্তক্ষরণ, তা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউজ ডেস্ক