পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রচারণা মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এ দফায় রাজ্যের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে।
প্রচারণার শেষ দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা একাধিক নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নেন। আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের সমর্থনে রোড শো করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। কুলটি আসনের বিজেপি প্রার্থী পোদ্দারের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী নিজে প্রচারণায় অংশ নেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও একাধিক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
তবে শেষ দিনে কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে তার হাত ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। তার গাড়ি ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, পরে প্রার্থী পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান।
এদিকে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে নন্দীগ্রামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তি হাবিবুল রহমান ওরফে নান্টু, যিনি মোহাম্মদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে, চলবে টানা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রথম দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪৬৫ জন।
এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফসহ একাধিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে অধিকাংশ আসনে মূল লড়াই হবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে।
প্রথম দফায় মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের উদয়ন গুহ, মানস ভুঁইয়া, মলয় ঘটক, স্বপ্না বর্মন ও গৌতম দেব। বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে আছেন শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক দিন্দা ও অগ্নিমিত্রা পাল। কংগ্রেসের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও মৌসম বেনজির নুর।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে, যা ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ব্যবস্থা। মোট ৪৪ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিং ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং ২ হাজারের বেশি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, ভোট চলাকালে কোনো অনিয়ম বা সহিংসতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়া নজরদারি থাকবে, গুজব বা সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে।