মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জে সরকারি অনুমোদনের ভুয়া সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সাথে ভয়াবহ প্রতারণা করছে ‘রাজধানী ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস’ নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর বৈধ সদস্যের লাইসেন্স নম্বর চুরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রটি।
সরেজমিন দেখা গেছে, বায়রা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ‘ফরচুন ওভারসিজ’ (লাইসেন্স নং- ১৮৪৭)-এর পরিচয় ব্যবহার করে এই চক্রটি শহরের ‘চাঁদনী রয়্যাল টাওয়ারের’ দ্বিতীয় তলায় একটি বড় ওয়াল ব্যানারে নিজেদের বৈধ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। এসময়, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার কাইয়ুম ও তাঁর সহযোগীরা দ্রুত অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন। পরবর্তীতে টেলিফোনে কৌশলী আলাপচারিতায় কাইয়ুম স্বীকার করেন যে, ১৮৪৭ লাইসেন্সটি তাঁদের নিজস্ব নয়।
এই জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা ওয়াসিম আকরামের সাথে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার দেখা পাওয়া যায়নি।
‘ফরচুন ওভারসিজ’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ নিজাম জানান, "রাজধানী নামের এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের লাইসেন্স চুরি করে ব্যবহার করছে। তারা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এই প্রতারক চক্রের কোনো দায়ভার তাঁর প্রতিষ্ঠান নেবে না।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মী মশিউর রহমান জানান, রাজধানীর আড়ালে মূলত অবৈধ মানবপাচার চলে। বিপদের আশঙ্কায় তিনি চাকরি ছেড়েছেন বলেও জানান।
এদিকে, এদের প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রবাসী শাওন, শাকিব ও অন্তর। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওয়াসিম আকরাম ও তার সহযোগী বাহের তাঁদের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে টিটিসি মানিকগঞ্জের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী নূর অতএব আহম্মদ বলেন, ব্যঙ্গের ছাতার মতো যে অবৈধ এজেন্সি মানিকগঞ্জে গড়ে উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া দরকার এবং সঠিক তদন্ত করে তাদের শাস্তি দেওয়া দরকার। ভুয়া আর এল নম্বরগুলোও বন্ধ করা প্রয়োজন।
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আওলাদ হোসেন বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কর্মী পাঠানো অবৈধ। কোনো বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ছাড়া কেউ বিদেশে কর্মী পাঠাতে পারে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
নিউজ ডেস্ক