ঢাকা

রাতভর সেনাবাহিনীর অভিযানে টংকাবতীতে অপহৃত ৬ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত
বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে অজ্ঞাত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত ৬ জন রাবার শ্রমিককে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবান সেনা জোন (২৮ ই বেঙ্গল)-এর পরিচালিত দ্রুত ও চৌকস অভিযানের ফলে অপহৃতদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, অপহরণের পর থেকেই গত ২৩ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল ভোর ৫টা পর্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য সব স্থানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরবর্তীতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার ভোরে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সেনাসদস্যরা অপহৃতদের যে পাহাড়ে আটকে রাখা হয়েছিল তার নিকটে পৌঁছালে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা শ্রমিকদের ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে সেনাসদস্যরা তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

এ সময় ম্যাংতাং ম্রো (৩০) নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার পিতা পাড়াও ম্রো, গ্রামের নাম লাকড়ি পাড়া, টংকাবতী। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে টংকাবতী ইউনিয়নের ইসমাইলের রাবার বাগান এলাকা থেকে অজ্ঞাত সশস্ত্র গোষ্ঠী ৬ জন শ্রমিককে অপহরণ করে। পরদিন অপহরণকারীরা একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে বাগান মালিক মো. ইসমাইলের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে অপহৃতদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

অপহরণের খবর পেয়ে বান্দরবান সেনা জোন তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্য নিয়ে অভিযান শুরু করে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দিন-রাত চিরুনি অভিযান চালানোর ফলে অপহরণকারীরা চাপে পড়ে অপহৃতদের ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা হলেন— মো. ইসমাইল, মো. আরাফাত, মো. শফিক, মো. নুরুল আফসার, মো. কলিমুল্লা এবং মো. রমিত। উদ্ধার শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ সফল অভিযান এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



কমেন্ট বক্স