দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার থেকে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল এবং বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করাতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগবে। এরপর বিকিরণ প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে আরও ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন হবে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত সাপেক্ষে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগতে পারে।
চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের পর নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হবে। এই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হতে পারে।
১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নিয়ে গড়ে ওঠা রূপপুর প্রকল্প দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক অবকাঠামো প্রকল্প। এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আর নির্মাণ কাজ করছে রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় কম খরচে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে রূপপুর। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া থেকে প্রথম চালান হিসেবে পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আসে এবং অক্টোবরে তা রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে। এরপর থেকেই এটি পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ধারণা প্রথম উঠে আসে ১৯৬১ সালে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আন্তরাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়। ২০১৫ সালে নির্মাণসংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুরু হয় প্রকল্পের কাজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
নিউজ ডেস্ক