যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও নৌ-অবরোধের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তাদের কোনো তেলকূপ বা জ্বালানি অবকাঠামো হামলার শিকার হলে, হামলাকারীকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর ওপর ‘চারগুণ’ পাল্টা আঘাত হানা হবে।
ইরানের কৌশলগত জ্বালানি নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাকাব ইসফাহানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, “যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। একটি তেলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার জবাবে চারটি তেলকূপে আঘাত হানা হবে।”
তার এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো চাপে রয়েছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবরোধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে মস্কো সফরে রয়েছেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপের চেষ্টা চলছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশে তেহরানের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নিউজ ডেস্ক