যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি’র কারণেই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বর্তমানে রাশিয়া সফরে রয়েছেন এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তেহরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র নতুন শর্ত আরোপ করে। আরাগচি বলেন, “চাপ, হুমকি ও একতরফা দাবির মাধ্যমে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব নয়।”এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করে আলোচনায় বসতে পারে। পাকিস্তানে সম্ভাব্য বৈঠক বাতিল করে তিনি জানান, “তারা চাইলে আমাদের ফোন করতে পারে।”
চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ইরানের সিনিয়র আইনপ্রণেতা আলী নিকজাদ বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যুদ্ধ-পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।এর মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সম্ভাব্য শান্তি কাঠামো প্রস্তাব করেছে ইরান। প্রস্তাবে প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রস্তাবে পরমাণু কর্মসূচির আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে সরিয়ে রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে দেশটির ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকার এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে তেহরান তাদের জব্দকৃত সম্পদ ফেরতও দাবি করেছে।অন্যদিকে, সৌদি আরব-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরআইবি। দুই দেশই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার সিনিয়র আইনপ্রণেতা আলেক্সি পুশকভ দাবি করেছেন, সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য ইরান দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের কাছে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে।উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
নিউজ ডেস্ক