কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা। কোথাও হাঁটু ও কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বাইরে বের হওয়া মানুষ। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সঙ্গে থাকা অভিভাবকদেরও ভোগান্তির শেষ ছিল না। পরীক্ষার কেন্দ্রে পানি থাকার কারণে বেঞ্চে পা তুলে বসে পরীক্ষা দিতে হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের চেয়ারে পা তুলে বসতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ভারী বর্ষণের ফলে এমন ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
টানা বৃষ্টিতে নগরীর আদালত সড়ক, লাকসাম সড়ক সালাউদ্দিন মোড়, মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, রেইসকোর্স এলাকা, ঈদগাহ সড়ক, অশোকতলা, মগবাড়ি চৌমুনী, কালিয়াজুড়িসহ নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে আছে।
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। টানা বর্ষণে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
এদিকে, মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে যাওয়া অভিভাবকদের। বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জলাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আবার অনেক কেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের হাঁটু ও কোমর সমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্র থেকে বের যেতে দেখা যায়।
কুমিল্লার ঈশ্বরপাঠশালা স্কুল কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষা শেষে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে অভিভাবক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেতরে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে। স্কুলের পুরাতন ভবনে যে সকল শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিখতে হয়েছে।’
নগরীর মগবাড়ি চৌমুনী এলাকার ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, ‘বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে সব ভিজে গেছে। সিটি কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে যেন বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ তৈরি না হয় সে উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা।’
এদিকে, জমে থাকা পানি নিষ্কাশনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ড্রেন ও খালের মুখগুলো পরিচ্ছন্ন করে দ্রুত পানি সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। তবে বিকেল পর্যন্ত নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি জানান, উপজেলার ভবানীপুর, এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছে, সেগুলো আবারও সংযোগ দিতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ।
তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ দপ্তর।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বিকেলে জানিয়েছেন, যেসব ড্রেনের মাধ্যমে নগরীর পানি বহির্গমন করে সেসব ড্রেন ও খাল তাৎক্ষণিক পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে যাবে।
নিউজ ডেস্ক