ঢাকা

বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চলমান অস্থিরতা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে উন্নয়নশীল দেশগুলো গুরুতর অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে।

সম্প্রতি আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম-এর পার্শ্ব আয়োজনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট সমাধান না হলে এর প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। অতীতে এমন ধাক্কায় নবীন ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তেল, এলপিজি ও সারের সরবরাহ ওঠানামার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে যেকোনো বৈশ্বিক বিঘ্ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সামুদ্রিক রুট সচল রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব পথ খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় কৃষি, শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে জ্বালানির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে চাষাবাদের মৌসুমে ডিজেল ও সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময়।

তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি সাশ্রয়, রেশনিং ব্যবস্থা এবং অফিস সময়সূচিতে সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে।

দেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, পাশাপাশি সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

এছাড়া তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নিজের প্রার্থিতার কথাও উল্লেখ করেন। নির্বাচিত হলে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশ, ছোট রাষ্ট্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির উদ্বেগগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ফোরামটিকে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে এর কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।



কমেন্ট বক্স