টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল চট্টগ্রাম নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকার জন্য দায়ী করা হচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান প্রকল্পকে। এ পরিস্থিতিতে দুর্ভোগের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ঢাকা থেকে ছুটে যান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তবে পুরো পরিস্থিতিতে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে এক বৈঠকে তাকে পেয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি তাকে ‘সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন’ বলেও মন্তব্য করেন।
টাইগারপাসে অনুষ্ঠিত ওই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী, সিটি মেয়র ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সিডিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল সংস্কারের কাজ চললেও কার্যকর সমন্বয়ের অভাবেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে সিডিএর কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না থাকায় জনগণের ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে সিটি মেয়রের ওপর।
এদিকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ১৯ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রকে আহ্বায়ক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরাও এতে যুক্ত রয়েছেন।
এই কমিটির মূল দায়িত্ব হবে নগরের খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তদারকি করা। প্রয়োজনে তারা সভা আহ্বান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও সরকারকে সুপারিশ দিতে পারবে।
গত মঙ্গল ও বুধবারের ভারী বৃষ্টিতে নগরের বহু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, খাল সংস্কার কাজের জন্য অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় পানি নামতে পারেনি, ফলে জলাবদ্ধতা তীব্র হয়েছে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সিডিএ চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি এবং তার কোনো বক্তব্য না দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ আরও বেড়েছে। মেয়র নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন সংকটময় সময়ে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকা জরুরি ছিল।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন গঠিত সমন্বয় কমিটির কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।