ইসলামে শ্রমকে শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং ইবাদতের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, নামাজ শেষে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে, যাতে সফলতা অর্জিত হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) শ্রম ও হালাল উপার্জনকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বাণীতে বলা হয়েছে, ফরজ ইবাদতের পর হালাল উপার্জন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত রোজগারকে সর্বোত্তম বলা হয়েছে।
ইসলামে শ্রমিকের অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, শ্রমিকরা আমাদের ভাই। তাদের ওপর অযথা কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তাদের খাবার, পোশাক এবং মৌলিক প্রয়োজন যেন মালিক বা নিয়োগকর্তার সমানভাবে নিশ্চিত করা হয়—এ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি সময়মতো প্রদান করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুল (সা.) বলেছেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দিতে। একই সঙ্গে অন্যায়ভাবে মজুরি আটকে রাখা বা বিলম্ব করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে মালিক ও নিয়োগকর্তার দায়িত্ব শুধু কাজ করানো নয়, বরং শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং মানবিক চাহিদার প্রতি যত্নবান হওয়া। তাদের জন্য সহজ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা করা নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসেও দেখা যায়, বিভিন্ন নবী ও রাসুল (আ.) নিজেরা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করেছেন, যা শ্রমের মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে।
সব মিলিয়ে ইসলামের শিক্ষা স্পষ্ট—শ্রমিক অবহেলার নয়, সম্মানের। ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি।