আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’ কর্মসূচি পালন করেছেন হাজারো মানুষ। শুক্রবার (১ মে) ‘মে ডে স্ট্রং’ জোটের আহ্বানে দেশজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ স্থানে এই কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা স্কুল, কর্মস্থল ও কেনাকাটা বর্জন করে বিক্ষোভে শামিল হন।
আয়োজকদের উদ্যোগে দিনভর ওয়াকআউট, মিছিল, সড়ক অবরোধ, ব্লক পার্টি এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বড় শহরগুলোতে কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে তরুণ নেতৃত্বাধীন ‘সানরাইজ মুভমেন্ট’-এর কর্মীরা নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান প্রবেশদ্বারে নিজেদের শিকল দিয়ে বেঁধে অবস্থান নেন এবং অন্যান্য প্রবেশপথও অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ এসে কয়েকজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ফ্রি ডিসি’ সংগঠনের কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটান। তাদের ব্যানারে শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক সেবার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেখা যায়।
শিকাগোতে সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি অ্যামাজন গুদাম ঘেরাও করে পদযাত্রা করেন। একইভাবে টেনেসির মেম্ফিসে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় শুয়ে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের ডেটা সেন্টারের প্রবেশপথ অবরোধ করেন।
ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে হিলটন হোটেলের লবি দখল করা হয় এবং মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে একটি সেতু অবরোধের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এবারের আন্দোলনে অভিবাসন সংস্থা আইসিই বিলুপ্তি, যুদ্ধ বন্ধ, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে। এতে শ্রমিক ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী, অভিবাসী অধিকারকর্মী, বামপন্থী সংগঠন ও ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সদস্যরা অংশ নেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। উত্তর ক্যারোলাইনার অন্তত ১৫টি স্কুল জনশিক্ষা তহবিলের দাবিতে শিক্ষকদের ছুটি দেয়। এছাড়া উইসকনসিনের ম্যাডিসন ও মিলওয়াকিতেও কিছু স্কুল বন্ধ রাখা হয়।
নিউজ ডেস্ক