ঢাকা

বেড়িবাঁধ সংস্কারে ৩০ বছরের গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বেড়িবাঁধ ও সড়ক সংস্কার কাজকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা প্রায় ২০০টি গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় উপকারভোগী ও গাছের মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে এবং প্রভাব খাটিয়ে এস্কাভেটর দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে একদিকে উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অন্যদিকে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামে শ্রীমন্ত নদের তীরবর্তী এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। কিসমত ঝাটিবুনিয়া থেকে উত্তর ঝাটিবুনিয়া পর্যন্ত সড়কের পাশে লাগানো মেহগনি, রেইনট্রি ও চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। উপড়ে ফেলা গাছগুলো সড়ক ও আশপাশের জমিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে পাউবোর উদ্যোগে বেড়িবাঁধে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। কাঁঠালতলী থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের একটি অংশে বর্তমানে সংস্কার কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, উপড়ে ফেলা গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা।

উপকারভোগী মো. লিটন হাওলাদার বলেন, “প্রায় ৩০ বছর আগে বন বিভাগের সহায়তায় আমরা গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। এখন এগুলো বিক্রির উপযোগী হলেও কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই সেগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। বাধা দিলেও তা শোনা হয়নি।”

সবুজ বনায়ন প্রকল্পের উপকারভোগী কমিটির সভাপতি মো. জলিলুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা গাছগুলোর যত্ন নিয়েছি। কিন্তু সংস্কার কাজের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০০টি বড় গাছ উপড়ে ফেলেছে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

মির্জাগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, গাছ অপসারণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা না মেনে ঠিকাদারের মাধ্যমে গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. মিজানুর রহমান সোহাগ মৃধা বলেন, “পাউবোর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। তারা বন্ধ করতে বললে কাজ বন্ধ করা হবে।”
অন্যদিকে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, তিন মাস আগে বন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এবং এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে যেন কোনো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



কমেন্ট বক্স