রাজধানীর শাপলা চত্বর-কেন্দ্রিক ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনার স্মৃতি ঘিরে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে শাপলা স্মৃতি সংসদ। সংগঠনটি শহীদদের তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সম্প্রতি তারা শহীদদের তথ্য সংরক্ষণ ও জনসমক্ষে উপস্থাপনের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত প্রথম ধাপে ৭০টি এবং দ্বিতীয় ধাপে আরও ৫০টি পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা ও ঈদসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি পরিবারকে নিয়মিত ভাতার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণেও কাজ করছে সংগঠনটি। ২০২৫ সালের ২৪ মে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ‘শহীদনামা’ শীর্ষক একটি স্মারক প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে আল জাজিরা, দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, অধিকার এবং হেফাজতে ইসলাম-এর ঢাকা মহানগর কমিটিকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন বলেন, শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক নয়, নৈতিক দায়িত্বও। দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে তারা কাজ করছেন।
সংগঠনের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেন, ৫ মে’র ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং এর স্মৃতি সংরক্ষণ ও বিচার নিশ্চিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে চলতি মাসে ‘শাপলা স্মৃতি প্রতিযোগিতা’ আয়োজন করা হয়েছে। এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আগামী ৮ মে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত হবে। একই অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও ‘শহীদনামা’র নতুন সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।