রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হলগুলোতে মাঝেমাঝেই আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। গত দুই মাসে তিনবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, এতে শিক্ষার্থীরা ভয়ে ও আতঙ্কে দিন পার করছে। বুধবার (৬ মে) ভোর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের ৫২৫ নম্বর কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে অঙ্গারে পরিণত হয়েছে।
ওই রুমের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান রনক বলেন, ‘আমার এক নিকটাত্মীয় আনুমানিক রাত ১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রাতে আমার দুই রুমমেটসহ তাকে দেখতে যাই। আনুমানিক ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে রুমে ফিরে এসে দেখি কক্ষে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে এবং আমার ল্যাপটপটি অঙ্গারে পরিণত হয়েছে। ল্যাপটপসহ অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে আমার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সহপাঠীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাসহ প্রায় ৪ থেকে ৫টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, মাঝেমাঝেই হলে আগুন লেগে প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি পুড়ে যাচ্ছে, দ্রুত আগুন নিভানোর কারনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে, এমন চলতে থাকলে পুরো হলে আগুন লেগে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।
এর আগে, গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোর পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল হামিদ হলের ৩১৬ নম্বর কক্ষে ল্যাপটপের কীবোর্ডে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, এতে ল্যাপটপের অতিরিক্ত কিবোর্ড ও কিছু বই পুড়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীরা হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এছাড়াও, গত রবিবার (৮ মার্চ) শহীদ শহীদুল ইসলাম হলের ১০৪ নম্বর কক্ষে কেমিক্যালজাতীয়/ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের সহকারী প্রভোস্ট ও সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে সকালে আমরা উক্ত রুম পরিদর্শনে গিয়েছি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন লেগেছে বলে আমরা ধারণা করছি। শিক্ষার্থীদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের অসতর্কতার কারণে এমন আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। আমরা মাঝেমাঝে এসব চেকআপ করি, আমরা আবার হল পরিদর্শনে যাবো, এর কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিব। আবাসিক হলের সমস্যা সমাধানে আমরা তৎপর।’