ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একাধিক কক্ষ অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর উদ্দীনের বিরুদ্ধে। গত ২৬ এপ্রিল হল প্রশাসন দখলকৃত কক্ষ ফাঁকা রেখেই সিট বরাদ্দ দিলেও বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে হল প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে সিট দখল বাণিজ্য। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শামীম রেজা নামের এক শিক্ষার্থী ২২৫ নম্বর কক্ষে বৈধভাবে সংযুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি ২২১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। তার নামে থাকা কক্ষের একটি সিট দীর্ঘদিন ফাঁকা রেখেই নতুন ৮৫টি সিট বরাদ্দ দেয় হল প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, জিয়া হলের তিন সিটের ২২৫ নম্বর কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে একাই দখলে রেখেছেন তিনি।
এদিকে প্রকাশিত সিট বরাদ্দ তালিকায়ও একাধিক অসঙ্গতি দেখা গেছে। হলের ১০৭, ১১৩, ১১৫, ১২৮ ও ৩০৩ নম্বর কক্ষে দুটি করে সিট ফাঁকা থাকলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। একইভাবে ১২৯, ২১০, ২২১, ২২৩, ২২৬, ২২৭, ২৩১, ২৩২, ২৩৪, ৩০৫, ৩৩০, ৪২৬, ৪২৮ ও ৪৩৩ নম্বর কক্ষেও সিট ফাঁকা থাকলেও নতুন কোনো শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব সিটের অধিকাংশই পূর্ব থেকেই অবৈধ দখলে রয়েছে এবং দখলকারীদের বেশিরভাগই ছাত্রদল কর্মী।
অন্যদিকে, কিছু কক্ষে সিট ফাঁকা না থাকলেও সেখানে নতুন করে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি কক্ষে এক সিটের বিপরীতে দুই থেকে তিনজন শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪১১, ৪১৫, ৩২৭, ২০৮, ৩১৫ ও ৩০৬ নম্বর কক্ষে কোনো সিট ফাঁকা না থাকলেও নতুন করে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৩২৫, ৩২৬, ৩৩৫, ৪১৯, ২০২, ২১৫, ৩১৩ ও ১১৯ নম্বর কক্ষে মোট ফাঁকা সিটের অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১২৩ নম্বর কক্ষে সিট ফাঁকা না থাকলেও নতুন সিট বরাদ্দ দিয়ে তা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ১১৬ নম্বর কক্ষে এক শিক্ষার্থী নোটিশ ছাড়াই টাকা জমা দিয়ে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিয়া হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “কিছু ভাইয়ের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তারা হল প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় সিট দখল করে রেখেছেন। নতুন শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা রুমে উঠতে পারছেন না। বরাদ্দকৃত কক্ষে গিয়ে দেখা যায় আগে থেকেই তিনজন অবস্থান করছেন। এরপরও নতুন একজনকে সেই কক্ষে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সিট শুধু কাগজে-কলমে আছে, বাস্তবে থাকার সুযোগ নেই।”
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “হলের ফি জমা দিয়ে রশিদ নিয়েছি, তালিকায় নামও এসেছে। কিন্তু কক্ষে উঠতে পারছি না। মেস ছেড়ে দেওয়ার পর এখন থাকার জায়গা নিয়েই বিপাকে পড়েছি।”
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য নূর উদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সিট বরাদ্দ প্রসঙ্গে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী জানান, শিক্ষার্থীদের সিনিয়রিটি ও মেধার ভিত্তিতে এবং হল স্টাফদের মাধ্যমে কয়েক দফা তথ্য যাচাই-বাছাই করেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ৫ আগস্টের আগে পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় কিছু শিক্ষার্থী নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেরাই কক্ষ দখল করে নেওয়ায় এবং দাপ্তরিক তালিকায় তাদের নাম না থাকায় বর্তমানে কিছু কক্ষে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কিছু কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় সঠিক তথ্য না পেয়ে পাশের রুমের তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলোকে শূন্য দেখিয়ে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিষয়ে এরই মধ্যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
নিউজ ডেস্ক