ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান ওরফে রনি নামে কথিত দুই সাংবাদিককে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক এস এম মাসুদ পারভেজ এ রায় দেন।
এস এম আলী আজম (৫৫) আশগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর দক্ষিণ এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসিন্দা এবং আশিকুর রহমান ওরফে রনি (৪৫) কুমিল্লার কতোয়ালী থানার কাপ্তান বাজারের বাসিন্দা হলেও সোনারামপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। রায় প্রদানের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান আলী আজম ও আশিকুর রহমান। সেখানে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এস এম আলী আজম নিজেকে সাপ্তাহিক সত্যের দিগন্ত পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং আশিকুর রহমান নিজেকে ভোরের ডাক পত্রিকার সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন। সে সময় তারা বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা, করোনা মহামারীর কারণে ১ বছর ছয় মাস বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সরকারি অনুদানের টাকা খরচ না করে প্রধান শিক্ষকের পকেটে রেখে দিয়েছেন বলে অনুদানের টাকা খরচের বিল-ভাউচার দেখতে চান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের জানান, বিল দেখানের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আছে এবং দেখতে হলে তিনি দেখবেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হন এবং এক পর্যায়ে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এক পর্যায়ে তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করার ভয়-ভীতি ও হুমকি দেন। পরে তারা প্রধান শিক্ষকের কাছে করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের সরকারি অনুদানের টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র দেখাতে বললে তারা দেখাতে পারেননি। কথাবর্তায় সন্দেহ হওয়ায় বিদ্যালয়ের কমিটিসহ স্থানীয় লোকজন এস এম আলী আজমকে আটক করেন। তবে অপর আসামি আশিকুর রহমান মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। সেসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক আলী আজমকে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার দিনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ছদ্মবেশে প্রতারণা, ছদ্মবেশে প্রতারণার ও অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের ধারায় (দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারা) আশুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ একই ধারায় আদালতে তাদের দুইজনকে আসামী করে অভিযোগপত্র দেন। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে রোববার দুপুরে আদালত দুই আসামিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর বলেন, সাজাপ্রাপ্তরা সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা জায়গায় চাঁদাবাজি করতেন। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন। এতে বাদী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। প্রকৃত সাংবাদিকরা সবসময় দেশ, সমাজ ও নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। সাজাপ্রাপ্তরা নামসর্বস্ব পত্রিকার কার্ড ব্যবহার ও অনুমোদনহীন ফেসবুক পেজ খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। তারা মূল ধারার কোনো সাংবাদিক নন। এ রায় অপ-সাংবাদিকতা ও ভুয়া সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী বার্তা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, আজকেই ওই মামলার রায়ের দিন ধার্য্য করেছিল আদালত। তাই দুই আসামীরা আজ আদালতে উপস্থিত হন। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দুইজনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদেরকে ইতোমধ্যে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক