ইবি প্রতিনিধি : জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন “ফুলকুঁড়ি আসর” তারারমেলা শাখার উদ্যোগে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং শিশু ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১০ এপ্রিল) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) টিএসসিসি ভবনের ১১৬ নম্বর কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
“মা ও শিশুর বন্ধনে গড়ে উঠুক মানবিক পৃথিবী” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেসমিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন ফুলকুঁড়ি আসর কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক আলিমুদ্দিন আলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঝিনাইদহ শহর শাখার পরিচালক শমসের মুবিন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ফুলকুঁড়ি আসর ইবি তারারমেলা শাখার পরিচালক আহনাফুজ্জামান। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সহকারী পরিচালক মুবাশ্বির আলম।
প্রধান আলোচক সহকারী অধ্যাপক জেসমিন আক্তার বলেন, মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়, বরং মায়ের অবদান ও ভালোবাসাকে স্মরণ করার একটি উপলক্ষ। একজন সন্তানের জীবনের প্রতিটি ধাপে, মেধা বিকাশ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। মা নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে সবসময় সন্তানের ভালো থাকা ও ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবেন।
তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা মাকে ভালোবাসলেও তা প্রকাশ করা হয় না। অথচ একজন সন্তানের জীবনে মায়ের ত্যাগ, পরিশ্রম ও অবদান অপরিসীম। সন্তানকে সঠিক পথে রাখতে ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বর্তমান সময়ে সন্তানরা পরিবার থেকে দূরে গেলে অনেক ক্ষেত্রে বিপথগামী হয়ে পড়ে উল্লেখ করে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে এবং নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলিমুদ্দিন আলিম বলেন, অভিভাবকরা সন্তানের পেছনে বছরের পর বছর সময় ব্যয় করেন তাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। কিন্তু তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কতটুকু সময় দিচ্ছি, সেটিও ভাবতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে চলাফেরা করছে এবং কী করছে, এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফুলকুঁড়ি আসর দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে কাজ করছে। বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও আদর্শ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে তারা ভবিষ্যতে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
আয়োজক তারারমেলা শাখার পরিচালক আহনাফুজ্জামান জানান, মা দিবস উপলক্ষে “আমার মা” শিরোনামে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের মাঝে মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবার ও সন্তানের মধ্যে মানসিক দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এ বাস্তবতায় মা ও সন্তানের সম্পর্ককে আরও দৃঢ়, আন্তরিক ও মানবিক করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
জানা যায়, রচনা প্রতিযোগিতায় ১০টি স্কুলের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে দুইটি গ্রুপে মোট ৩৭ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে চারজনকে “সেরাদের সেরা” হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সেরাদের সেরা ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন প্রাথমিক পর্যায়ে রাইসা খাতুন ও রাইয়ান এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে আব্দুল্লাহ আল আলিফ ও গুলে তাবাসসুম জ্যোতি।
নিউজ ডেস্ক