ঢাকা

ভর্তি বাণিজ্য ঠেকাতে শিক্ষকদের 'স্পেশাল সেল', প্রতারকদের ‘লাল কার্ড’ শিক্ষার্থীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে ভর্তি এবং ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ‘বড় ভাই’ সেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি অসাধু চক্র। বিগত সরকারের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই প্রতারণা এখনো ভিন্ন আঙ্গিকে চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানা যায়, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের কম টাকায় ভর্তি এবং ফরম ফিলাপ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা কেয়া জানান, তিনি ২ হাজার টাকা সাশ্রয়ের আশায় এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছিলেন।
কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় সেই টাকা কলেজ সার্ভারে জমা পড়েনি দেখে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। সার্ভারে বকেয়া থাকায় নতুন করে নিরুপায় হয়ে  টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। কেয়ার মতো শত শত শিক্ষার্থী এখন এই চক্রের হাতে প্রতারিত হয়ে দিশেহারা।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের কম টাকায় ভর্তি ও ফরম ফিলাপের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে। 

বর্তমানে ছাত্রলীগ না থাকলেও স্বার্থান্বেষী কিছু মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে কেউ যদি কম টাকায় ভর্তি হতে চান ইনবক্সে যোগাযোগ করবেন। এমনকি তাদের জন্য আলাদা গ্রুপ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে প্রতারণার সেবা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের কিছু অসাধু কর্মচারী ও শিক্ষকের মদদ ছাড়া এই বিশাল জালিয়াতি সম্ভব নয়।

এই অরাজকতা রুখতে তেজগাঁও কলেজ প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থানে। কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সরাসরি সহযোগিতা করতে এবং দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ‘তথ্য সহায়তা কেন্দ্র’ গঠন করা হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহের পাঁচ দিনই আলাদা আলাদা শিক্ষক দল এই সেবা নিশ্চিত করবেন।

সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তথ্য কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন জনাব নুর নবী আল মাহমুদ, তাঁকে সহযোগিতা করবেন জনাব মোঃ নজীবুল্লাহ খাঁন, সাথে থাকবেন জনাব নওরীন সাজ্জাদ এবং কারিগরি ও তথ্যগত সহায়তায় থাকবেন জনাব সজীব কুমার বসু।

 দ্বিতীয় দিন সোমবার শিক্ষার্থীদের নির্ভুল তথ্য দেবেন জনাব সিলভিয়া খায়ের, তাঁর সাথে সমন্বয় করবেন জনাব জয়নাল আবেদীন, আরও উপস্থিত থাকবেন জনাব শামছুল আলম এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন জনাব শারমিন নাহার।

মঙ্গলবার তথ্য সেবার নেতৃত্ব দেবেন ড. রেহানা শারমিন, তাঁর সাথে যুক্ত থাকবেন জনাব মোহাম্মদ রফিকুল আলম, শিক্ষার্থীদের সাহায্য করবেন জনাব মোশফেকা আলম এবং প্রশাসনিক তদারকিতে থাকবেন জনাব এরশাদ আলী রহমান।

সপ্তাহের মাঝদিন বুধবারে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কাজ করবেন জনাব শাহনাজ আক্তার, তাঁর সাথে থাকবেন জনাব মোহাম্মদ সুরুজ্জামান, আরও দায়িত্ব পালন করবেন জনাব আবু জাফর মোঃ কামাল উদ্দিন এবং তথ্য কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন জনাব সৈয়দা সামজিলা অতিক।

সপ্তাহের শেষ দিনে বিশেষ সেলে নিয়োজিত থাকবেন জনাব আমিনুল হক, তাঁর সাথে সহযোগিতা করবেন জনাব খোরশেদ আলম, আরও থাকবেন জনাব মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় ঢাল হিসেবে থাকবেন জনাব মোঃ আব্দুলাহ-আল-মাহমুদ।

শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিদিন তথ্য কেন্দ্রে অফিস সহায়তায় সক্রিয় থাকবেন অফিস সহকারী মাঈনুল ইসলাম ও ফিরোজ আলম। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মাঠে সরাসরি সহযোগিতা করবেন সাহায্যকারী রাশেদুল ইসলাম ও সেলিম আহমেদ।

কলেজ প্রশাসনের এমন কার্যক্রমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উপকৃত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আগে বড় ভাইদের পেছনে ঘুরতে হতো, এখন সরাসরি শিক্ষকদের পাচ্ছি। এতে টাকা ও সময় দুই-ই বাঁচছে।”

তিনি আরো বলেন, বিগত সরকারের সময় ছাত্রলীগ যেভাবে কয়েক শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল, বর্তমানের কিছু রাজনৈতিক কর্মী ঠিক একই কায়দায় শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলছে। এরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে ‘কম টাকায় ভর্তি’ বা ‘কম খরচে ফরম ফিলাপ’ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেন, "আমরা প্রতারক চক্রের সন্ধান পেলেই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। শিক্ষার্থীদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে তারা যেন কোনো ফেসবুক গ্রুপ বা মেসেঞ্জার গ্রুপের প্রলোভনে না পড়ে। কলেজের নির্ধারিত তথ্য কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও কোনো আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।"

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এই স্বচ্ছ উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের চলে আসা ভর্তি ও ফরম ফিলাপ বাণিজ্যের অবসান ঘটবে এবং শিক্ষার্থীরা হয়রানি মুক্ত হবে।
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে ভর্তি এবং ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ‘বড় ভাই’ সেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি অসাধু চক্র।



কমেন্ট বক্স