ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বজ্রপাতে ফাহাদ হোসেন (১৫) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার আরেক সহপাঠী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের বিনাউটি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহাদ হোসেন ওই গ্রামের প্রবাসী ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলার সাতগ্রাম এডভোকেট হারুনুর রশিদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ফাহাদ তার সহপাঠী জিহাদ ও রাফিকে নিয়ে একই গ্রামের অপর মহল্লায় সহপাঠী বোরহান মিয়ার বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির কারণে তারা বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে ফাহাদ ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সহপাঠী রাফিও আহত হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ফাহাদকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতের চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম জানান, বজ্রপাতের পরপরই ফাহাদ অচেতন হয়ে পড়ে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক জানান, আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আহত রাফিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাহমিনা আক্তার বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে বজ্রপাতে আহত অবস্থায় ফাহাদকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজনীন সুলতানা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে চলে যান। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক