গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি বেওয়ারিস পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে আহতদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে জলাতঙ্ক ভীতি দেখা দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে এখনও জলাতঙ্কের চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী, কঞ্চিবাড়ী এবং পাশের ছাপড়হাটী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় একটি পাগলা কুকুর অতর্কিত হামলা চালায়।
নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জনকে কামড়ে জখম করে কুকুরটি। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, আক্রান্তদের অনেকেই শুরুতে সচেতনতার অভাবে স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক ও প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে শুরু করেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আক্রান্তদের মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন: সুলতানা বেগম (৫০), মাস্টারপাড়া গ্রাম, কঞ্চিবাড়ী।নন্দ রানী (৫৫), বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রাম।ফুলু মিয়া (৫৫), কঞ্চিবাড়ী গ্রাম।আফরোজা বেগম (৫০), কঞ্চিবাড়ী গ্রাম।রতনেশ্বর কুমার (৫৩), পূর্ব ছাপরহাটী এলাকা।এদের মধ্যে গত বুধবার ও শুক্রবার তিনজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তী মঙ্গলবার ও বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাড়িতে আরও দুজন মারা যান।
আক্রান্তদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী মিতু আক্তার জানায়, বাড়ির উঠানে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ কুকুরটি এসে তার হাতে কামড় দেয়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার (১১) জানায়, স্কুলে যাওয়ার পথে কুকুরটি তার মুখমণ্ডলে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করে। সে ছয়দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিস কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মোজাম্মেল হক এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন গত তিন বছরে উপজেলায় বেওয়ারিস কুকুরের টিকার কোনো বরাদ্দ আসেনি। তবে আজ ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টা থেকে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে বেওয়ারিস কুকুরদের সরকারি ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে।"এই বিষয়ে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন সুন্দরগঞ্জে কুকুর কামড়ে যে সকল ব্যক্তি নিহত হয়েছে।সেই নিহত পাঁচজনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। একজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিউমোনিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।"আক্রান্ত ব্যক্তিরা সরাসরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেননি, তবে তারা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন।
আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা বর্তমানে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জনসচেতনতায় কাজ করছেন।"বর্তমানে এলাকায় পাগলা কুকুরের উপদ্রব কমাতে এবং আতঙ্ক দূর করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিউজ ডেস্ক