ভারতের উত্তর প্রদেশে শক্তিশালী ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণের তাণ্ডবে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের অন্তত ২৬টি জেলায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭২ জন। পাশাপাশি বহু গবাদি পশু মারা গেছে এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
রাজ্যের ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলা। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন। এছাড়া মির্জাপুরে ১৯ জন, ভাদোহিতে ১৬ জন এবং ফতেহপুরে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বজ্রপাত, গাছ উপড়ে পড়া এবং দেয়াল ধসের কারণে।
ঝড়ের তীব্রতায় ভাদোহি ও মির্জাপুর অঞ্চলের পন্টুন ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গঙ্গা তীরবর্তী প্রায় ২০টি গ্রাম মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জেলা প্রশাসনকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গবাদি পশু ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির জন্যও দ্রুত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
ত্রাণ কমিশনারের দপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর আপডেট নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) বলছে, বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ঘূর্ণিঝড় সঞ্চালন এবং পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে এই দুর্যোগ তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি ছিল, যা এ সময়ের জন্য অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় এখনও আবহাওয়া সতর্কতা জারি রয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও না পাওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক