পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পশুর খামারগুলোতে এখন জমে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতি। বিভিন্ন খামারে বিশাল আকৃতির দেশি-বিদেশি জাতের গরু ও মহিষ প্রদর্শিত হচ্ছে, আর দর্শনার্থীদের ভিড়ও দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যেই বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে দুটি অ্যালবিনো মহিষ। নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ও ‘নেতানিয়াহু’, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বন্দর উপজেলার এসএস ক্যাটল এগ্রো ফার্মে থাকা এই দুই মহিষকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও এদের নিয়ে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
খামার সূত্রে জানা গেছে, অ্যালবিনো জাতের এক মহিষের মাথার চুলের আকৃতির কারণে তাকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরেকটি মহিষের আক্রমণাত্মক ও রাগী স্বভাবের কারণে তার নাম রাখা হয় ‘নেতানিয়াহু’।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাদা বর্ণের এই দুটি মহিষ খামারে আলাদা করে নজর কাড়ছে। অনেকেই তাদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং আচরণ পর্যবেক্ষণ করছেন। খামারটিতে এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের শতাধিক গরু ও ভেড়াও রয়েছে।
এসএস ক্যাটল এগ্রো ফার্মের রাখাল রাসেল বলেন, মহিষগুলোর স্বভাব ও চেহারার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ীই নাম দেওয়া হয়েছে। একটি তুলনামূলক শান্ত হলেও অন্যটি প্রায়ই অন্য পশুর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।
খামারে আসা দর্শনার্থী সাদিয়া রহমান নিহা বলেন, নাম শুনেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, এখন সামনে দেখে ভালো লাগছে।
খামারের স্বত্বাধিকারী মেহেনুমা মেহজাবিন জানান, নামগুলো খামারের কর্মীদের দেওয়া, এতে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, পশুগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এগুলো দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খামারিরা নিজেদের আগ্রহ থেকেই পশুর নামকরণ করেন। তিনি আরও বলেন, এবার জেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি রয়েছে। পশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে বলেও জানান তিনি।