কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন ‘দুর্বলতায়’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। গতকাল রোববার তিনি বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরশীলতার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, "বিশ্ব এখন আরও বিপজ্জনক ও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মৌলিকভাবে পরিবর্তন করেছে এবং শুল্ক এমন পর্যায়ে বাড়িয়েছে, যা শেষবার মহামন্দার সময় দেখা গিয়েছিল।"
তিনি আরও যোগ করেন যে, আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কানাডার পুরনো শক্তিগুলো এখন বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই দুর্বলতাগুলো দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প কেবল কানাডার ইস্পাত, গাড়ি ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর চড়া শুল্কই আরোপ করেননি, বরং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়েও বারবার মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের এই ধরনের বাগাড়ম্বর কানাডীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
কানাডার প্রায় ৭০ শতাংশ রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে যায়। এই অতিনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কার্নি। তিনি বলেন:
"যুক্তরাষ্ট্র আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন আশা করা কোনো বাস্তবসম্মত কৌশল নয়। আমাদের নিজেদের দিকেই বেশি নজর দিতে হবে। আমরা কেবল একটি বিদেশি অংশীদারের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারি না।"
গত সপ্তাহে কার্নির লিবারেল সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে কানাডাকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, এ বছরই যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (USMCA) ত্রিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি জানিয়েছেন, আগামী দিনে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে কানাডা নিজের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে ফিরিয়ে নেবে।