উপজেলায় বসার জন্য জায়গা পেয়ে এবার যাতায়াতের যেন সুবিধা হয়, সেজন্য সরকারের কাছে গাড়ির দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে উপজেলায় অফিস পেয়ে ধন্যবাদ জানাতে দাঁড়িয়ে সরকারের কাছে গাড়ির আবদার করেন হাসনাত।
বিরোধীদলের এই এমপি বলেন, ‘আমরা লজ্জায় একটা কথা বলিনা। পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে বলছি, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত করতে হয়, আমরা লজ্জায় এটা কোথাও বলতে পারি না। আমাদের বসার ব্যবস্থা করে দিসে, এখন একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে আরও সহজ হয়।’
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নেওয়ার ব্যাপারে শুরুতেই অনুশাসন দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোসহ সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের দাবির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো বিহিত ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বিরোধী দলের নেতা ড. শফিকুর রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবিকে কগনিজেন্সে নেওয়ার জন্য ট্রেজারি বেঞ্চকে ধন্যবাদ জানান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি কিছুটা রসিকতা করে বলেন, ‘একটা কথা আছে, ছোটদের আবদারে সবসময় না বলতে নেই, তাদের আবদারে হ্যাঁ বলতে হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলে ফেলেছে, সাথে সাথে না-না বললেই আমি বেশি খুশি হতাম। আমি চিন্তা করেছিলাম, এতো বড় খবরে বিরোধীদল থেকে কিছু মিষ্টি খাইয়ে দেব, কিন্তু এখানে এসে বাধাগ্রস্ত হয়ে গেলাম, পারলাম না। একটা ধাক্কা খেলাম।’
তার এমন কথায় সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে স্পিকার পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ অংশে বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছেন।